Saturday, April 27, 2019

নাশকতার পরে হামলার শিকার শ্রীলঙ্কার মুসলিমরা

কলম্বো: পবিত্র ইস্টারের দিনে দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় ঘটে গিয়েছে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ। বন্দর শহরের নেগম্বোতে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণ গিয়েছে। শ্রীলঙ্কা সরকারের পক্ষ থেকে ওই ঘটনার সঙ্গে ইসলামিক জঙ্গি গোষ্ঠী জড়িত বলে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনার রেস যে সুদুরপ্রসারী হবে তা বলাই বাহুল্য। সেই ধারা বজায় রেখেই নতুন সংকট দেখা দিয়েছে শ্রীলঙ্কায়। নেগম্বো শহরের মুসলিম পরিবার মারাত্মক সংকটের মধ্যে পরেছে। মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় হামলা চালিয়েছে স্থানীয়রা। একাধিক জনপ্রতিনিধিরাও দলবল নিয়ে হামলা চালিয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের বাড়িতে।

এমনই তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্যা গার্ডয়ান। ওই প্রতিবেদন অনুসারে শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পরবর্তী অবস্থায় হিংসা ছড়িয়েছে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায়। সাম্প্রদায়িক হিংসার বাতাবরব সৃষ্টি হয়েছে। বহু সংখ্যালঘু মুসলিম মানুষ ঘর ছাড়া হয়েছেন। সমগ্র এলাকা ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে। ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন হামলা চালানোর কারণে এই প্রতিকূলতার সৃষ্টি হয়েছে বলেও লেখা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

এই সকল ঘটনা থেকেই উঠে আসছে বছর খানেক আগে ঘটে যাওয়া মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশের ঘটনা। ওই এলাকা ছিল মুসলিম রোহিঙ্গা অধ্যুষিত। সেখানের কিছু বাসিন্দাদের সঙ্গে ওই দেশের সেনার বিরোধ বাধে। যার কারণে লক্ষাধিক মানুষকে ঘর ছাড়া হতে হয়। পড়শি বাংলাদেশ এবং ভারতে প্রবেশ করে বহু রোহিঙ্গা শরণার্থী। যাদের কারণে ভারতীয় উপমাহাদেশে এক হয়া জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সমাজীবনেও বড় প্রভাব ফেলেছে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা।

এই ধরনেরই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। দেশ না ছাড়লেও ঘর ছাড়া হতে হয়েছে বহু মুসলিম সম্প্রাদায়ের মানুষকে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও তাঁদের পাশে নেয়। এক নেতা মুসলিমদের বিরুদ্ধে এলাকায় পোস্টার লাগিয়েছেন। যেখানে ইংরেজি এবং সিংহলি ভাষায় লেখা আছে, “এই সকল মানুষদের তাড়ানো দরকার। আমাদের এই সকল লোক প্রয়োজন নেই। আমরা পাকিস্তানী রিফিউজি চাই না।”

নেগম্বো এলাকার সংখ্যালঘু মুসলিমদের পাশে দাড়িয়েছে প্রশাসন। পুলিশের তৎপরতায় তাঁদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিরাপদ থানেই তাঁদের রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক কর্তারা। প্রায় ৭০০ মানুষ কোথায় রয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে।

শ্রীলঙ্কায় হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান মিলিয়ে প্রায় ২২ মিলিয়ন সংখ্যালঘু মানুষ রয়েছে। এই মুহূর্তে ক্ষোভের শিকার কেবল মুসলিমরা। ওই দেশে সাধারণত আহমেদি সম্প্রদায়ের মুসলিম বাস করে। যারা পাকিস্তান থেকে দেশান্তরিত হয়ে শ্রীলঙ্কায় বসবাস শুরু করে। ১৯৭৪ সালে আহমেদিদের অমুসলিম বলে ঘোষণা করে পাকিস্তান। আহ্মেদিদের অপরাধী বলেও গণ্য করা শুরু হতে থাকে। সেই সময়েই শ্রীলঙ্কায় বসতি স্থাপন করে আহমেদিরা। যদিও মক্কা-মদিনায় অনেক আগেই আহমেদিদের নিষিদ্ধ করেছিল।

এই অবস্থায় প্রবল্প্রতকূলতার মুখে পরেছেন শ্রীলঙ্কায় বসবাসকারী আহমেদিরা। ৫৮ বছরের তারিক আহমেদ বলেছেন, “পাকিস্তানের লোকেরা আমাদের উপরে হামলা করে বলল যে আমরা মুসলিম নই। এখন আবার শ্রীলঙ্কার লোকেরাা আমাদের মারতে আসছে। আর বলছে যে আমরা মুসলিম।” ২১ বছর বয়সী কাজি মইন আহমেদ বলছেন, “আমরা শ্রীলঙ্কার শত্রু নই। আমরাও এখানে সন্ত্রাসের শিকার হয়েছি।” একই সঙ্গে তাঁর আরও বক্তব্য, “আমরা জঙ্গি নই। কিন্তু আমাদের সঙ্গে জঙ্গিদের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে।”

The post নাশকতার পরে হামলার শিকার শ্রীলঙ্কার মুসলিমরা appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.



from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper http://bit.ly/2UY4JaY

No comments:

Post a Comment

Dasna temple priest Yati Narasinghanand released from jail

from India | The Indian Express https://ift.tt/pciraez