সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: সামনেই বিশ্ব পরিবেশ দিবস। তার আগে গাছ বসানোর ধুম বিশ্বজুড়ে। কিন্তু উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের বিশেষ দাওয়াই , আসছে বর্ষা। এই সময়ে যেমন গাছ রোপন করতে হবে তেমন কিছু গাছ উপড়ে ফেলে দিতেও হবে। না হলে বিপদ আসন্ন। গাছ হলেও সেগুলি গাছ নয়। এগুলি আগাছা, পার্থেনিয়াম। বর্ষার জল পড়তে সুর করলেই এর বাড়বাড়ন্ত শুরু হয়।
গ্রাম থেকে শহরে সব জায়গাই আজকাল এই বিষাক্ত উদ্ভিদটি দেখা মেলে। যা এক ধরনের বিষাক্ত আগাছা, যা মানুষ ও প্রাণী দেহে নানা ক্ষতি করে।পার্থেনিয়াম গাছের প্রভাবে মানুষের অ্যাজমা,ব্রঙ্কাইটিস,হাই ফিভার,অ্যালার্জি,হাঁপানি, ক্ষতসহ চর্মরোগ, প্রচণ্ড ম্যথাব্যথ গবাদি পশুরও ওই রোগগুলি হতে পারে। পাশাপাশি ‘পার্থেনিয়াম আগাছা’ যুক্ত মাঠে গবাদিপশু চরানো হলে পশুর শরীর ফুলে যাওয়া, তীব্র জ্বরসহ নানা রোগে আক্রন্ত এবং বদ হজম দেখা দেয়। পার্থেনিয়াম আগাছা ফসলি জমিতে থাকলে ফসলের উৎপাদন প্রায় চল্লিশ শতাংশ কমিয়ে দেয়। পার্থেনিয়াম আগাছাযুক্ত মাঠে গবাদিপশু চরানো হলে পশুর শরীর ফুলে যায়, তীব্র জ্বর, বদহজমসহ নানা রোগের উপসর্গ দেখা দেয়।আগাছা ফসলের উৎপাদন প্রায় চল্লিশ শতাংশ কমিয়ে দেয়।
বিশেষ করে ভূট্টার ক্ষেত্রে এ আগাছা ফল ধরার পর প্রাথমিক অবস্থায় মোচার ফল ধারণ ক্ষমতা ত্রিশ শতাংশ হ্রাস করে। এছাড়া ধান, ছোলা, সরিষা, গম, বেগুন, এবং মরিচের ক্ষেত্রে এ আগাছা বীজের অঙ্কুরোদগম ও বৃদ্ধি কমিয়ে দিয়ে ফসলের ফলন অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। আসলে এই পার্থেনিয়ামে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের টক্সিন বা বিষ, যা মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীদের জন্য ক্ষতিকর। এ ছাড়াও এই বিষাক্ত আগাছা এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে যা কীটপতঙ্গ ও ফসল উভয়েরই ক্ষতি করে। পার্থেনিয়ামের মূল উৎপত্তিস্থল মেক্সিকো। সেখান থেকে এই বিষাক্ত আগাছা ছড়িয়ে পড়েছে আমেরিকা, আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত, পাকিস্তান, চীন, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশে। রাস্তার দুপাশে হামেশাই দেখা যায় এই আগাছা। বাইরে বের হলেই আপনি এই গাছটিকে দেখতে পাবেন।
বিশেষ করে রাস্তার পাশে অনাদরেও দারুণ বেড়ে চলে এই গাছটি। পাকা রাস্তার ধারে , গ্রামের রাস্তার ধারে কোথায় নেই এই গাছ। খুব দ্রুত বাড়ে এই গাছ। ছড়িয়েও পড়তে পারে খুব দ্রুত। এটি সাধারণত উচ্চতায় ১ থেকে ১.৫ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। ধনে পাতার গাছের মতো দেখতে ছোট ছোট সাদা ফুলে ভর্তি এই গাছটি। পার্থেনিয়াম শাখা বিস্তারের মাধ্যমে গম্বুজ আকৃতির অথবা ঝোপ আকারের হয়। পাতা শাখাযুক্ত ত্রিভুজের মতো। নির্দিষ্ট বয়সে ফুল ফোটে। একটি গাছ বাঁচে তিন থেকে চার মাস। এই সময়ের মধ্যেই তিনবার ফুল ও বীজ দেয়। গোলাকার, সাদা, আঠালো এবং পিচ্ছিল হয়ে থাকে এর ফুল। পার্থেনিয়ামের একটি গাছ ৪ থেকে ২৫ হাজার বীজের জন্ম দিতে পারে। এই বীজ এতই ছোট যে সাধারণত গবাদিপশুর গোবর, গাড়ির চাকার কাদামাটি, পথচারীদের জুতোর তলার কাদামাটি, সেচের জল ও বাতাসের সঙ্গে এর বিস্তার ঘটে।
আগাছা দমন করার উপায়–
১। এই আগাছার জঙ্গল পুড়িয়ে ফেলা যেতে পারে। কিন্তু সমস্যাও আছে । পোড়ানোর সময় এই গাছের রেণু উড়ে দূরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে সেক্ষেত্রেও ঐ গাছের বংশ বিস্তার বা মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে ঐ রেণু ঢুকে মানুষে ক্ষতি করতে পারে।
২। ঐ গাছ কেটে গভীরগর্তে পুতে ফেলা তাহলে রেণু ওড়ার সম্ভাবনা কম । কিন্তু এ ক্ষেত্রেও সমস্যা আছে – যারা এই আগাছা কাটবে তারা আক্রান্ত হতে পারে। মানে একেবারে শাঁখের করাতের মতো অবস্থা।
৩ । রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় তথা আগাছানাশক ব্যবহার করেও এ আগাছা দমন করা যায়। এক্ষেত্রে ব্রোমাসিল, ডায়ইউরোন, টারবাসিল প্রতি হেক্টরে দেড় কেজি অথবা ডাইকুয়াট আধা কেজি ৫০০ লিটার জলে মিশিয়ে প্রতি হেক্টরে প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া প্রতি হেক্টরে দুই কেজি ২.৪ ডি সোডিয়াম লবণ অথবা এমসিপিএ ৪০০ লিটার জলে মিশিয়ে স্প্রে করেও এ আগাছা দমন সম্ভব।
৪। জৈবিক দমন প্রক্রিয়া পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হীন একটি ভালো ব্যবস্থা। এই পদ্ধতিতে নানাধরণের পাতাখেকো বা ঘাসখেকো পোকার মাধ্যমে পার্থেনিয়াম গাছকে দমন করা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
৫। উপড়ে কিছুদিন ফেলে রাখুন, শুকনো হয়ে গেলে পুড়িয়ে দিন।
The post বেশিদিন বাঁচতে হলে দেখলেই এই গাছ পুড়িয়ে ফেলুন appeared first on Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper.
from Kolkata24x7 | Read Latest Bengali News, Breaking News in Bangla from West Bengal's Leading online Newspaper http://bit.ly/2Kl40d9
No comments:
Post a Comment