Sunday, July 1, 2018

আপোষহীন দৃঢ়চেতা কৌতূকপ্রিয় বিধানচন্দ্র রায়

সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়: পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়। ১৯৪৮ সাল থেকে আমৃত্যু তিনি ওই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। বিখ্যাত এই চিকিৎসক ১৯২৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের প্রভাবে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভার নির্বাচনে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন। পরে কলকাতা পৌরসংস্থার মেয়র নির্বাচিত হন। ১৯৩১ সালে মহাত্মা গান্ধীর ডাকে আইন অমান্য আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাবরণ করেছিলেন তিনি৷

ছোটবেলা থেকেই বিধান রায় ছিলেন একবারে দৃঢ়চেতা৷ আপোষহীন এই মানুষটি মাঝে মাঝে ব্রিটিশ আমলে সাহেবদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়তেন৷ তেমনই আবার উন্নতমানের রসবোধ ছিল এঁনার৷ বিভিন্ন সময়ে দেশীয় নেতা-নেত্রী ও বিশিষ্টজনেদের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় সেটাও প্রকাশ পেত৷ তাঁর সম্পর্কে সেইসব কিছু গল্পকথা তুলে ধরা হল৷

একেবারে ছাত্রজীবনের কথা৷ তখন বিধান রায় ডাক্তারি পড়ছেন৷ বন্ধুদের সঙ্গে দলবেধে বেড়াতে গিয়েছিলেন বর্ধমান৷ সেখান থেকে ফিরতে গিয়ে লক্ষ্য করেন এক ইংরেজ দম্পতি দু’টি বেঞ্চ দখল করে বসে থাকায় ট্রেনের ইন্টারক্লাস কামরায় অন্য যাত্রীরা দাঁড়িয়ে রয়েছেন ৷শুধু তাই নয় কেউ ওই বেঞ্চে বসতে গেলে গালাগালি করে নেটিভ বলে উঠিয়ে দিচ্ছিলেন ওই দম্পতি৷ কিন্তু যুবক বিধানচন্দ্র তাতে দমবার পাত্র নয়৷ তিনি সাহেব, মেমের পাশে জোর করে বসে পড়লেন৷ শুধু তাই নয় তারপর বন্ধুদের ও অন্যান্যদের ডেকে ডেকে বসাতে লাগলেন৷ অগত্যা চাপে পড়ে ওই ইংরেজ দম্পতি চুপচাপ অন্যদের বসতে দিয়ে এক কোনায় সরে যান৷

এর কিছুদিন পরে একেবারে মেডিকেল কলেজের সামনে আরও একটা ঘটনা ঘটে৷ এমবি পরীক্ষার দিন পনেরো আগে বিধানচন্দ্র দাঁড়িয়ে ছিলেন কলেজের গেটের সামনে৷ সেই সময় ধাত্রীবিদ্যার অধ্যাপক কর্নেল পেক-এর গাড়ি কলেজের দিকে আসার সময় চলন্ত ট্রামে ধাক্কা খায়৷ সেই ধাক্কায় ইংরেজ অধ্যাপকের গাড়ি ভেঙেচুরে যায় এবং তিনি সেদিন সামনে উপস্থিত বিধানকে তাঁর স্বপক্ষে সাক্ষী করতে চান৷ কিন্তু ছাত্র বিধান তাঁর শিক্ষককে জানিয়ে দেন, তিনি সাক্ষী হলে যা দেখেছেন সেটাই বলবেন৷ অধ্যাপকের নির্দেশ মতো মিথ্যা সাক্ষী দেবেন না ৷ ফলে তিনি সাক্ষী হলে সেটা আদৌ পেকের অনুকূলে যাবে না৷ নেটিভ ছাত্রের এমন কথা শুনে তো রেগে আগুন ইংরেজ অধ্যাপক৷ এর ক’দিন পরেই অবশ্য পরীক্ষা শুরু হল৷ লিখিত পরীক্ষা তিনি ভালই দিলেন কিন্তু মৌখিক পরীক্ষায় বিধানচন্দ্রকে মুখোমুখি হতে হল এই কর্নেল পেকের৷ ওইদিন প্রতিশোধ নিলেন ইংরেজ অধ্যাপক ৷ ওটিই ছিল বিধান রায়ের কেরিয়ারে প্রথম এবং শেষ ধাক্কা৷

একসময় এলাহাবাদে ‘আনন্দ ভবনে’ বিধান রায় বসে আছেন দেশের বিশিষ্ট এক ঝাঁক নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে৷ সেখানে তখন উপস্থিত গান্ধীজী, সরোজিনী নাইড়ু, ডাঃ আনসারি প্রমুখ৷ সেদিন কিছুটা হালকা মেজাজে গল্প করছিলেন সকলে৷ তখন সরোজিনী নাইড়ু হঠাৎ ডাঃ রায়কে প্রশ্ন করে বসেন, তাঁর বয়স ইতিমধ্যে ৫০ হলেও আশ্চর্যভাবে এখনও তাঁর গালে সুন্দর টোল পড়ে৷ তা শুনে কৌতূক করতে ছাড়েন না ডাঃ রায়৷ সরোজিনী নাইডুকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, তা আপনার এত বয়স হয়ে গেলেও এই সব এখনও লক্ষ্য করেন বুঝি৷ বিধান রায়ের এমন মন্তব্যে কিছুটা হকচকিয়ে গিয়েছিলেন সরোজিনী৷ কিন্তু খোদ গান্ধীজীই হো হো করে হেসে ফেলেছিলেন সেদিন৷

আবার এক সময় সরোজিনী নাইডুর কন্যা পদ্মজা নাইডু হন রাজ্যপাল৷ তখন আবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হলেন বিধান রায়৷ সেই সময় তিনি অসুস্থ হওয়ায় তাঁকে দেখতে এসেছেন পদ্মজা৷ তার পরেরদিনই ছিল ডাঃ রায়ের আবার জন্মদিন৷ কিন্তু পদ্মজা নাইডু বিধান রায়কে স্বাস্থ্যের কারণে নিষেধ করেন তাঁর জন্মদিনে জনগণের সঙ্গে দেখা করতে ৷ তখন বিধান রায় যুক্তি দেখান, তিনি নিজে যেখানে ডাক্তার সেখানে এই ব্যাপারে তাঁর নিজের মতেই চলা উচিত ৷ তখন পদ্মজা নাইডু হেসে জানতে চেয়েছিলেন , আদৌ কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের গভর্নরের আদেশ অমান্য করতে পারেন কি না? এই কথা শুনে অবশ্য হেসে ফেলেন ডাঃ রায় ৷ আর তর্কে না গিয়ে তা মেনে নিয়ে সেদিন বলেছিলেন, রাজ্যপালের আদেশ যখন এবার তাহলে তো মানতেই হচ্ছে৷

তথ্য ঋণ
একটি পেরেকের কাহিনী
সাগরময় ঘোষ

The post আপোষহীন দৃঢ়চেতা কৌতূকপ্রিয় বিধানচন্দ্র রায় appeared first on Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India.



from Bengali News | Latest Bengali News Live from Kolkata, West Bengal, India https://ift.tt/2tJoJy9

No comments:

Post a Comment

Dasna temple priest Yati Narasinghanand released from jail

from India | The Indian Express https://ift.tt/pciraez